দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পায়রা বন্দরের উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে উচ্ছেদ আতঙ্কে থাকা জিয়া কলোনীর ভূমিহীন পরিবারগুলো পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে।
রোববার (২৪ মে) সকাল ১১টায় পায়রা বন্দরের প্রধান ফটকের সামনে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ শতাধিক বাসিন্দা এ কর্মসূচিতে অংশ নেন। এ সময় উচ্ছেদ নয়, পূনর্বাসন চাই স্লোগান দেন তারা। পরে পায়রা বন্দরের চেয়ারম্যানের পক্ষে তার একান্ত সচিব মো. আহসান হাবীব ঈদ কার্ডটি গ্রহণ করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পায়রা বন্দরের প্রশাসনিক ভবনের পাশে ইটবাড়িয়া গ্রামের বেড়িবাঁধের ঢালে অবস্থিত জিয়া কলোনীতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছে ভূমিহীন পরিবারগুলো। ২০০৪ সালে তৎকালীন সময়ে আন্ধারমানিক নদীর তীরবর্তী বেড়িবাঁধে তাদের বসবাসের সুযোগ দেওয়া হয়। এরপর থেকে প্রায় দুই দশক ধরে তারা সেখানে বসবাস করে আসছে।
বাসিন্দারা জানান, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও অস্বাভাবিক জোয়ারের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও মাছ ধরা, ইটভাটা ও কৃষি শ্রমিক হিসেবে কাজ করে তারা জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন।
পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ ২০২৩ সালে বেড়িবাঁধের ওপর দিয়ে সড়ক নির্মাণ প্রকল্প হাতে নিলে এ কলোনীর প্রায় ১৩৬টি পরিবার উচ্ছেদ আতঙ্কে পড়েন বলে জানান তারা। জানা গেছে, প্রস্তাবিত সড়কটি পায়রা বন্দরের গেট থেকে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু পর্যন্ত নির্মাণ করা হচ্ছে।
জিয়া কলোনীর বাসিন্দা লাইলী বলেন, আমরা বন্দর এলাকার সবচেয়ে কাছের মানুষ। কিন্তু সবসময় উচ্ছেদের আতঙ্কে থাকি। তাই ঈদের শুভেচ্ছা জানাতে চেয়ারম্যানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি।
আরেক বাসিন্দা মো. ফোরকান হাওলাদার বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত উচ্ছেদ আতঙ্কে আছি। ঈদের দিন চেয়ারম্যান আমাদের কলোনী পরিদর্শন করলে আমাদের বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে পারবেন।
এ বিষয়ে ‘আমরা কলাপাড়াবাসী’ সংগঠনের সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, পায়রা বন্দরের প্রকল্পে হাজারো পরিবার পুনর্বাসন পেলেও জিয়া কলোনীর ভূমিহীনদের জন্য কোনো পুনর্বাসন বা ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা নেই।
তিনি বলেন, যাদের নিজস্ব জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে, তারা ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন পাচ্ছেন। অথচ ভূমিহীন পরিবারগুলোকে কোনো সহায়তা ছাড়াই উচ্ছেদের মুখে ফেলা হচ্ছে।
এদিকে বাসিন্দারা দাবি করেন, সরকার প্রয়োজন হলে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করুক, তবে ভূমিহীনদের মাথা গোঁজার ঠাঁই নিশ্চিত করেই তা করতে হবে। তারা আরও বলেন, জিয়া কলোনীতে এবার কোরবানিও দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না উচ্ছেদ আতঙ্কের কারণে।
বাসিন্দাদের দাবি, উচ্ছেদের আগে অবশ্যই পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
জে আই